মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ভাষা ও সংকৃতি

ভাষাঃ নানিয়ারচর উপজেলায় বাংলাদেশ স্বাধীনতার পূর্ব হতে কোন বাংলা ভাষা প্রচলন ছিলনা বললেই চলে। চট্টগ্রামের বাঁশখালী, কুদুরখীল, রাঙ্গুনিয়া,কাপ্তাই  ও অন্যান্য স্থান হতে এখানে আসা ব্যবসায়ীরা জাতিতে বাঙালী হলেও তারা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক (চাটগাঁইয়া/চিটাগাঙ্গ্যা) ভাষায় কথা বলতো।

পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে সরকারি চাকুরীজীবি এবং সরকারিভাবে সমতল এলাকা হতে পূন:র্বাসিত বাঙালীদের দ্বারা (যদিও আঞ্চলিক ভাষার প্রভাব এখনো বিদ্যমান) বাংলা ভাষার প্রচলন ঘটে। বাংলা ভাষাভাষী ছাড়াও আদি হতে রয়েছে চাকমা ও মারমা সম্প্রদায়। যাদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি। তাদের মধ্যে চাকমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। উপজেলার ৩ নং বুড়িঘাট ইউনিয়নের পুলিপাড়া গ্রামে শতবর্ষ পূর্ব হতে অদ্যাবধি রয়েছে একটিমাত্র মারমা পলস্নী। চাকমাদের মত তাদেরও রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি।

 

সংস্কৃতিঃ নানিয়ারচর উপজেলায় সংস্কৃতির ক্ষেত্রে প্রয়াতচুনী লাল দেওয়ান পিতা- শশী মোহন দেওয়ান এর নাম অগ্রগণ্য। তিনি ছিলেন একাধারে চিত্রশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, ও যন্ত্র শিল্পী। তার সহধর্মীনি প্রয়াত বসুন্ধরা দেওয়ানও ছিলেন তিন পার্বত্য জেলার প্রথম মহিলা হ্যাডম্যান এবং নানিয়ারচর বাজার চৌধুরী। 

স্বাধীনতার পূর্বে এবং ৯০ এর দশকে জাহানাতলী, সাপমারা, ফিরিঙ্গীপাড়া ও মংখোলা গ্রামে এলাকার বিভিন্ন গ্রামের সংস্কৃতিমনা উদ্যোগী লোকদের সমন্বয়ে গ্রামে গ্রামে যাত্রাপালা মঞ্চায়ন করা হতো। পরবর্তীকালে বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরম্ন শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির (প্রকাশ বনভমেত্ম) এর শাসনে পার্বত্য অঞ্চলে যখন বৌদ্ধধর্মের নবজাগরণের সৃষ্টি হলো তখন থেকে বুদ্ধ সংকীর্ত্তণ ও বিভিন্ন ধর্মীয় নাটক যাত্রাঢঙে মঞ্চায়িত হয়ে আসছে। চর্চা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এবং আধুনিক সংস্কৃতির ধারায় যা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।

 

উপজেলার ৩ নং বুড়িঘাট ইউনিয়নের বটবিল গ্রাম নিবাসী বাবু সমীরণ চাকমা বুদ্ধ সংকীর্ত্তণ (যা পূর্বে উলেস্নখ করা হয়েছে) গায়ক হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। বর্তমান সাবেÿ্যং মহাজন পাড়ায় ১৯৪৪ সালে সেপ্টেম্বর মাসের ১২ তারিখে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তার জন্ম। পিতা গায়ক ইন্দ্র মোহন চাকমা’ মাতা-চপলা দেবী চাকমা’র ১১ ছেলে-মেয়ের মধ্যে তিনিই বড়। তার কীর্ত্তণ পরিবেশনা নানিয়ারচর উপজেলা ছাড়িয়ে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বিসত্মার লাভ করে। বুদ্ধ সংকীর্ত্তণে লোকমুখে তার সুখ্যাতি এখনো উচ্চারিত হচ্ছে। বুদ্ধের জন্ম থেকে তার জীবন কাহিনী কির্ত্তণের মাধ্যমে পরবিশেন করে পার্বত্য অঞ্চলে শুধু সংস্কৃতির  ক্ষেত্রে নয়, বৌদ্ধধর্ম প্রচারে তার অবদান কোন অংশে কম নয়। বর্তমানে তিনি বার্ধক্যে এসেও বটবিল গ্রামের কার্বারী হিসাবে সমাজসেবায় নিয়োজিত আছেন। তার ছেলেরূপায়ণ চাকমা ও কালায়ন চাকমা পার্বত্য অঞ্চলে এখন সংস্কৃতিতে বহুগুণের প্রতিভাময়ী জনপ্রিয় শিল্পী হিসাবে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। অতীতে বড়পুলপাড়া গ্রামের ‘ননাহ্কাজী’ নামে এক চাকমা পন্ডিত এর নাম এখনো লোকমুখে শোনা যায়।